সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে ত্রিপুরার গর্ব: ককবরক ভাষার দিশারি নরেশ চন্দ্র দেববর্মা পেলেন পদ্মশ্রী ২০২৬

গোপাল সিং, খোয়াই, ২৫ জানুয়ারি || ত্রিপুরার সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। ককবরক ভাষা ও সাহিত্যের আজীবন সাধক শ্রদ্ধেয় শ্রী নরেশ চন্দ্র দেববর্মা সাহিত্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মশ্রী সম্মান ২০২৬-এর জন্য মনোনীত হলেন। এই সম্মান তাঁর দীর্ঘদিনের ভাষা-সংরক্ষণ, সাহিত্যচর্চা ও শিক্ষাক্ষেত্রে নিরলস অবদানের জাতীয় স্বীকৃতি।
ককবরক ভাষার এক নির্ভীক প্রবক্তা হিসেবে নরেশ চন্দ্র দেববর্মা ইতিমধ্যে ককবরক ভাষায় ৩০টিরও বেশি গ্রন্থ রচনা করেছেন। ভাষাটির একাডেমিক বিকাশ, সাংস্কৃতিক স্বীকৃতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক চর্চায় তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। ককবরক ভাষা চর্চায় তিনি নিয়মিতভাবে বাংলা বা দেবনাগরী লিপির ব্যবহারের পক্ষে মত প্রকাশ করে আসছেন এবং বিভিন্ন বৌদ্ধিক ও সাংস্কৃতিক আলোচনায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করে চলেছেন।
এই গৌরবজনক সম্মান উপলক্ষে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন, ককবরক ভাষা ও সাহিত্যে নরেশ চন্দ্র দেববর্মার অবদান অবিস্মরণীয়। ২০২৪ সালে রাজ্য সরকার তাঁর সাহিত্য ও শিক্ষাক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে ত্রিপুরাভূষণ সম্মানে ভূষিত করেছিল। পদ্মশ্রী প্রাপ্তির মাধ্যমে সেই কৃতিত্ব আজ জাতীয় স্তরে স্বীকৃত হলো, যা ত্রিপুরার গৌরবকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
ভাষা ও সংস্কৃতির উত্তরাধিকার সংরক্ষণ এবং আদিবাসী সাহিত্যের ভিত মজবুত করতে নরেশ চন্দ্র দেববর্মার এই সম্মান বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের কাছে নিঃসন্দেহে এক অনন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

FacebookTwitterGoogle+Share

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*